
শেখ সরোয়ার জাহান,প্যারিস প্রতিনিধি
নিজেদের ভাগ্য যাচাই করতে ফ্রান্সের দুই বাসিন্দা কিনেছিলেন লটারির টিকিট। আর সেই লটারিতে জিতে যান ৫ লাখ ইউরো। বাংলাদেশি মুদ্রায় যার পরিমাণ প্রায় সাড়ে ৬ কোটি টাকা!
ফ্রান্সের সংবাদমাধ্যম জানিয়েছে, ওই দুই ব্যক্তি লটারিতে এত বড় অঙ্কের পুরস্কার জিতে গেলেও তা দাবি করতে পারছেন না। কারণ ওই লটারির টিকিট তারা কিনেছিলেন চুরি করা ব্যাংক কার্ড দিয়ে।
বার্তা সংস্থা অ্যাসোসিয়েটেড প্রেস (এপি) জানিয়েছে, যে ব্যক্তির কার্ড তারা চুরি করেছেন, পুলিশি নথি অনুসারে তার নাম জঁ-ডেভিড ই। তিনি ওই দুই ব্যক্তিকে (চোর) তার সঙ্গে পুরস্কার ভাগাভাগি করে নেওয়ার প্রস্তাব দিয়েছেন। পাশাপাশি নিজের ওয়ালেটটিও ফেরত দাবি করেছেন।
তবে লটারি পরিচালনা কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, এখন পর্যন্ত কেউ লটারি বিজয়ী টিকিট জমা দিয়ে পুরস্কারের অর্থ দাবি করেননি। এবং কার্ডের প্রকৃত মালিক ছাড়া তারা কারো কাছে অর্থ হস্থাস্তর করবে না।
চলতি মাসের শুরুতে জঁ-ডেভিড জানতে পারেন যে, দক্ষিণাঞ্চলীয় শহর তুলু থেকে তার ব্যাকপ্যাক চুরি হয়ে গেছে। ওই ব্যাগের মধ্যে তার ব্যাংক কার্ডসহ অন্যান্য নথিও ছিল। এরপর তিনি কার্ডটি বন্ধ করে দেওয়ার জন্য ব্যাংকের সঙ্গে যোগাযোগ করেন। কিন্তু এর মধ্যেই তিনি জানতে পারেন, স্থানীয় একটি দোকানে তার কার্ডটি ব্যবহার হয়েছে।
ওই দোকানি বলেন, “এক গৃহহীন লোক আমার কাছ থেকে একটি লটারির টিকিট কিনিছেন। তখন তারা এতোই আনন্দিত ছিল যে, তারা তাদের সিগারেট ও অন্যান্য জিনিসপাতি নিতেও ভুলে যায়।
এরপর ওই চোরদের বিরুদ্ধে পুলিশের কাছে একটি অভিযোগ দাখিল করেন জঁ-ডেভিড। কিন্তু চোরেরা যদি ধরা দিয়ে তার সামনে চলে আসেন, তাহলে মামলা তুলে নিতে চান তিনি। পাশাপাশি লটারিতে জেতা অর্থও ভাগাভাগি করতে চান।
স্থানীয় একটি সংবাদমাধ্যমে জঁ-ডেভিড বলেন, “তারা (চোর) না থাকলে কেউই এই লটারি জিততে পারতাম না। কিন্তু আমাকে ছাড়াও তারা অর্থ তুলতে পারবে না।”
চোরদের উদ্দেশ্যে তিনি বলেন, “আপনাদের কোনো ঝুঁকি নেই। আমরা অর্থ ভাগ করে নিতে পারি। আপনাদের জীবন বদলে যাওয়ার সুযোগ তৈরি হয়ে যাবে। টিকিটের মেয়াদ পার হয়ে যেতে পারে এর জন্য চোরদের তাড়াতাড়ি যোগাযোগ করার জন্য আহ্বান জানান।
তবে জানাযায়, শেষ পর্যন্ত অর্থ ভাগাভাগির সিদ্ধান্ত হয়।