
বিশেষ প্রতিনিধি,মৌলভীবাজার
মৌলভীবাজারের শ্রীমঙ্গলে চাঁদা দাবি সহ নানান ভাবে হয়রানির অভিযোগ এনে সংবাদ সম্মেলন করেছেন শ্রীমঙ্গল উপজেলার বিরাইমপুর এলাকার আব্দুর রশিদ এর ছেলে নজরুল ইসলাম শাহিন।
শনিবার (২২ ফেব্রুয়ারি) রাত ৮টায় শ্রীমঙ্গল প্রেসক্লাবে সংবাদ সম্মেলন আয়োজন করে নজরুল ইসলাম শাহিন লিখিত বক্তব্যে জানান, পর্যটন নগরী শ্রীমঙ্গলে পর্যটন খাতে ভুমিকা রাখতে আমি এবং আমার পার্টনার এস এম বেলায়েত হোসেন মিলে উপজেলার দিলবরনগরের মুহিবুর রহমান সার্ভেয়ারের একটি বাড়ী ভাড়া নিয়ে ২০২১ সালের ১জানুয়ারিতে ৫ বছরের চুক্তিতে রিসোর্ট ব্যবসা শুরু করি। পরে পর্যটকদের সুবিধার্থে ইকো কটেজ হিসেবে ব্যবহার করার জন্য প্রায় ২৭ লক্ষ টাকা বিনিয়োগ করি।
রিসোর্টের নাম দেই ‘নিরালা ইকো রিসোটর্’। রিসোর্টটি ভালো চলায় স্থানীয় অন্য রিসোর্ট মালিক ও কিছু আওয়ামীলীগের স্থানীয় নেতাকর্মীদের রোষানলে পড়ি। তারা বিভিন্নভাবে আমাদের হয়রানি করতে থাকে। ২০২১ সালের ডিসেম্বর মাসে দিকে সদর ইউনিয়নের ৬ নং ওয়ার্ডের স্বেচ্ছাসেবক লীগের সহ-সভাপতি ১.রফিক মিয়া ও ২.আলাউদ্দিনের নেতৃত্বে ৮/১০ জন তাদের কর্মীদের নিয়ে আমাদের রিসোর্টে এসে বলে, ‘রিসোর্ট ব্যবসা ভালই তো করতেছেন। তুমি ও বাড়ীর মালিক মোস্তফা মিয়া তোমরা বিএনপি কর। এখানে রিসোর্ট ব্যবসা করতে হলে আমাদের মাসে ৫০ হাজার টাকা করে চাঁদা দিতে হবে! নতুবা এখানে রিসোর্ট ব্যবসা পরিচালনা করা যাবেনা’ বলে তারা হুমকি দেয়। আমি তাদের অপরাগতা প্রকাশ করে বলি, আমি বৈধভাবে ব্যবসা করছি,তোমরা যদি অবৈধ কিছু পাও তাহলে তোমাদের যা কিছু করার করিও বলে তাদের জানিয়ে দেই। পরে তারা বলে, ‘চুনারুঘাট থেকে এসে কিভাবে তুই ব্যবসা করছ আমরা দেখে নিব’ একথা বলে চলে যায়। পরে আমি স্থানীয় এলাকার মুরব্বি,আওয়ামীলীগের ছালিক ভাই,বাদশা ভাইকে ও পুলিশ প্রশাসনকে বিষয়টি মৌখিকভাবে জানিয়ে রাখি। এরকিছু দিন পর থেকে তারা আমাদের রিসোর্টে আগত অতিথিদের রাস্তায় আটকিয়ে পরিচয় জানতে চায় তারা স্বামী-স্ত্রী কিনা।
এছাড়া অতিথিদের কোথায় থেকে এসেছে এসব তাদের এখতিয়ারের বাহিরে অবান্তর প্রশ্ন করে নানাভাবে হয়রানি করতে থাকে। এভাবে তাদেও হয়রানির কারণে পর্যটক আসা কমে যায়। তারা এক পর্যায়ে আমাদের ব্যবসায় ধস নামিয়ে দেয়। ২০২৩ সালের মার্চ বা এপ্রিল মাসের কোন এক শুক্রবার তারা মসজিদের মুসল্লীদের উস্কানি দেয় আমাদের রিসোর্টে নাকি অসামাজিক কাজ ও গান-বাজনা হয়। এখান থেকে এই রিসোর্ট উচ্ছেদ করতে হবে বলে মুসল্লিদের চরমভাবে উত্তেজিত করে তুলে। ওই দিন নামাজ শেষে মসজিদের সকল মুসল্লি আমাদের রিসোর্ট ঘেরাও করেন। পরে তারা প্রতিটি রুমে রুমে তল্লাসি করেন। অবৈধ কোন কিছু তারা পান নাই। কিন্তু যে গেস্ট ছিলেন সবাই বৈধ ছিলেন। পরে এলাকার মুরুব্বি খোরশেদ মিয়া,মনু মিয়া,নূরে আলম সহ অন্যান্য মুরুব্বিগণ যারা তাদের এখানে এনেছে তাদের শাসিয়ে আমাদের নিকট ক্ষমা চাইতে বলেন। কিন্তু তারা ক্ষমা না চেয়ে বলে, অন্যসময় তাদের প্রমাণ দিবে আমরা বৈধ না কি অবৈধ ব্যবসা করছি। পরে তারা ডিবি ও জেলা পুলিশ দিয়ে ভিবিন্ন সময়ে আমাদের নানাভাবে হয়রানি করতে থাকে। কিন্তু তারা কোনভাবে সফল হয় নাই। এভাবে ২০২৩ সাল তাদের হয়রানির মধ্যে ব্যবসা চালিয়ে যাই। কেননা আমরা অনেক টাকা বিনিয়োগ করেছি সেই টাকা তুলতে হবে। তাদের ছোটখাট হয়রানির মধ্যে ২০২৪ সালের জুন পর্যন্ত আমরা সেখানে ব্যবসা পরিচালনা করতে পারি। কেননা জুলাই-আগষ্ট মাসে দেশে ছাত্র-জনতার আন্দোলন শুরু হয়। সেখানে গেস্ট আসা বন্ধ হয়ে যায়। গত ৫ আগষ্ট স্বৈরাচারী হাসিনার পতনের পর রফিক মিয়া ও আলাউদ্দিন ওই দিন বিএনপি সেজে যায়। সেদিন বিকেল সাড়ে ৫ টার সময় স্থানীয় আরও কিছু ৮/১০ জন লোকজন নিয়ে ৭/৮ টি মটর সাইকেল যোগে তারা আমার রিসোর্টে এসে আমার ম্যানেজার সৌরভ বর্ধন এর নিকট ১ লক্ষ টাকা চাঁদা দাবী করে। তারা তখন ম্যানেজারকে বলে তুই এই মূহুর্তে ১ লক্ষ টাকা না দিলে তর রিসোর্টের এসি খোলে নিয়ে যাব।
ম্যানেজার বলে আজ দুই মাস থেকে কোন ব্যবসা নেই। কিভাবে এত টাকা দিব। পরে তারা আমার রিসোর্টের ৪টি এসি খোলে নিয়ে যায়। এসময় তারা রিসোর্টটি ভেঙে চুরমার করে দেয় ও আরও অন্যান্য মূল্যবান সম্পত্তি লুটপাট করে আমার প্রায় ২৫ লক্ষ টাকার ক্ষয়ক্ষতি করে। ওই সময়ে তারা আমাদের একটি মটরসাইকেলে আগুন ধরিয়ে জ¦ালিয়ে দেয়। তখন দেশে পুলিশ ছিল না। আমরা র্যাবের নিকট যাই কিন্তু কোন সহযোগিতা পাইনি। পরে সেনাবাহিনীর নিকট গেলে তারা দুই পর ঘটনাস্থল পরিদর্শন করে আমাদের কোর্টে মামলা করার পরামর্শ দেন। আমি পরে গত ২১ আগষ্ট ২০২৪ ইং তারিখে আদালতে তাদের বিরুদ্ধে মামলা দায়ের করি।
আমি চাঁদা না দেয়ার কারণে আওয়ামীলীগের সন্ত্রাসী রফিক মিয়া ও আলাউদ্দিনের নেতৃতে আমার রিসোর্টটি ভাংচুর ও লুটপাট করা হয়। তারা আমার ও আমাদের রিসোর্টের বিরুদ্ধে সীমাহীন অপবাদ ও সম্মানহানী করে গেছে। তারা আমাদের সীমাহীন ক্ষয়ক্ষতি করেছে।
গত ৫ আগষ্টের পর আমরা সেখান রিসোর্ট ব্যবসা থেকে চলে আসি। তাহলে কেন তারা আমার বিরুদ্ধে গত ২০ ফেব্রুয়ারী ২০২৫ ইং তারিখে মানববন্ধন করে? আপনারা লক্ষ্য করবেন তারা মামলা থেকে বাঁচার জন্য আমার মামলার এজহার নামীয় ১০ জন সেদিন শ্রীমঙ্গল চৌমুহনায় মানববন্ধনে ছিল। তারা এলাকার কোন মুরুব্বিদের মানববন্ধনে আনে নাই কেন? তারা অন্য এলাকা থেকে লোক ভাড়া করে এনে সেদিন মানবন্ধন করেছিল। তিনি বিষয়টি সাংবাদিকদের তদন্ত করে দেখার অনুরোধ জানান।