
মৌলভীবাজার প্রতিনিধি: জুলাই আন্দোলনের অধিকার সংরক্ষণের জন্য একটি রাজনৈতিক দলের প্রয়োজন বলে মত দিয়েছেন জাতীয় নাগরিক কমিটির National Citizens Committee যুগ্ম-আহ্বায়ক, লেখক ও চিন্তক সারোয়ার তুষার। রবিবার রাতে শ্রীমঙ্গল পৌরসভা অডিটোরিয়ামে জাতীয় নাগরিক কমিটির এক মতবিনিময় সভায় তিনি এ কথা বলেন।
সভায় সারোয়ার তুষার বিএনপি নেতাদের ওপর হওয়া গুম, খুন ও নির্যাতনের বিচার চাওয়া নিয়ে বর্তমান রাজনীতির অবস্থান নিয়ে কঠোর সমালোচনা করেন। তিনি বলেন, “বিএনপি নেতারা নিজেদের ওপর হওয়া অন্যায়ের বিচার চাইতে ভুলে গিয়ে নির্বাচনে ব্যস্ত হয়ে পড়েছেন, যা লজ্জাজনক।”
সভায় অন্যান্য বক্তারা শ্রীমঙ্গলে চাঁদাবাজি, পুলিশের ভূমিকা ও সাংবাদিকদের নামে ভুয়া মামলার নিন্দা জানান। বক্তারা অভিযোগ করেন, পুলিশের নাকের ডগায় চাঁদাবাজি হলেও তারা দেখেও দেখে না, বরং মামলার মাধ্যমে বাণিজ্য করছে।
জাতীয় নাগরিক কমিটির কেন্দ্রীয় সংগঠক প্রিতম দাশের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত সভায় বক্তব্য দেন নির্বাহী কমিটির সদস্য আলাউদ্দিন মোহাম্মদ, তাজনুভা জাবীন, শেখ তাসানিম আফরোজ ইমি, সাদিয়া ফারজানা দিনা, ডেপুটি সুপ্রিম লিডার বরুনা মাদ্রাসার প্রিন্সিপাল মাওলানা শেখ নূরে আলম হামিদী, শ্রীমঙ্গল সিরাজনগর ফাজিল ডিগ্রি মাদ্রাসার অধ্যক্ষ মাওলানা মুফতি শেখ শিব্বির আহমেদ ও শ্রীমঙ্গল মাধ্যমিক শিক্ষক সমিতির সভাপতি ঝলক চক্রবর্তী।
সভায় বক্তারা আওয়ামী লীগ ও বিএনপির অতীত কর্মকাণ্ডের সমালোচনা করেন এবং বলেন, “একটি মুক্তিযুদ্ধের সরকার নিজেদের স্বার্থে জুলুমবাজ হয়ে গিয়েছিল এবং তাদের পরিণতি সবাই দেখেছে জুলাই বিপ্লবে। এখন পরিবর্তন এসেছে, কিন্তু এর অর্থ এই নয় যে প্রতিশোধ নিতে গিয়ে নতুন নেতৃত্বও তাদের মতো হয়ে যাবে।”
জাতীয় নাগরিক কমিটির কেন্দ্রীয় নেত্রী তাজনুভা জাবীন জনগণের প্রতি আহ্বান জানিয়ে বলেন, “আপনারা আমাদের সমর্থন অব্যাহত রাখুন, আমরা দেশকে ভালো কিছু উপহার দেবো।” অন্যদিকে, কমিটির কেন্দ্রীয় সদস্য আলাউদ্দিন মোহাম্মদ বলেন, “মানুষের ন্যায্য অধিকার প্রতিষ্ঠার জন্যই নাগরিক কমিটির সৃষ্টি, এবং আমরা সেই লক্ষ্যেই কাজ করে যাচ্ছি।”
সভাপতির বক্তব্যে প্রিতম দাশ বলেন, “আমরা প্রতিহিংসার রাজনীতি চাই না, আমরা একটি সুন্দর বাংলাদেশ চাই যেখানে জনগণ নির্বিঘ্নে বসবাস করতে পারবে। গণ-আন্দোলনের মধ্য দিয়ে আমরা মানুষের অধিকার আদায় করেছি, প্রয়োজনে আবারো লড়াই করবো।”
সভায় বক্তারা জুলাই আন্দোলনের ঘোষণাপত্র দ্রুত প্রকাশের দাবি জানান এবং নির্বাচনী পরিস্থিতি নিয়ে শঙ্কা প্রকাশ করেন। তারা জনগণের প্রতি ধৈর্য ধরার আহ্বান জানিয়ে বলেন, “এই অন্তর্বর্তীকালীন সরকারই নিরপেক্ষ নির্বাচন দেবে, সুতরাং তাড়াহুড়ো না করে অপেক্ষা করতে হবে।”
সভা শেষে নেতারা প্রতিশ্রুতি দেন যে, তারা জনগণের স্বার্থে কাজ করে যাবেন এবং যদি প্রয়োজন হয়, তাহলে আন্দোলন চালিয়ে যাবেন।