
শহীদুল ইসলাম মামুন, ফেনী থেকে:
ফেনীর সোনাগাজীতে দশম শ্রেণির ছাত্রীকে যৌন নিপীড়নের ঘটনায় উপজেলার মতিগঞ্জ ইউনিয়নের আর এম হাট কে উচ্চ বিদ্যালয়ের অফিস সহকারী নুর নবীর বিচারের দাবীতে বিক্ষোভ করেছে বিদ্যালয়ের সাধারণ শিক্ষার্থীরা। তদন্তে অভিযোগ প্রমাণিত হওয়ায় বহিষ্কার করা হয়েছে অফিস সহকারী নুর নবীকে।
বুধবার (২২ জানুয়ারি) বেলা ১২ টায় সোনাগাজী ফেনী আঞ্চলিক মহাসড়ক অবরোধ করে ঘন্টাব্যাপী বিক্ষোভ করে বিদ্যালয়ের কয়েকশ ছাত্র-ছাত্রী। ঘন্টাব্যাপী চলা বিক্ষোভের ফলে আঞ্চলিক মহাসড়কে যান চলাচল বন্ধ হয়ে যাওয়ায় সোনাগাজী উপজেলা নির্বাহী অফিসার কামরুল হাসান, মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা বায়েজিদ আকন, মাধ্যমিক শিক্ষা অফিসার নুরুল আমিন বিক্ষোভ মিছিলে উপস্থিত হয়ে অফিস সহকারীকে বহিষ্কার করে আইনের আওতায় আনার ঘোষনা দিলে শিক্ষার্থীরা সড়ক অবরোধ স্থগিত করে বিদ্যালয়ে ফিরে যায়।
এর আগে ১৯ জানুয়ারি দশম শ্রেনীর ওই শিক্ষার্থী শ্লীলতাহানীর ঘটনার বিচার দাবি করে প্রধান শিক্ষক মিজানুর রহমানের কাছে লিখিত অভিযোগ দেন। ২০ জানুয়ারি বিদ্যালয়ের শিক্ষক নুরুল আফছার, লুৎফুর নাহার সুমি, সুবর্ণ চক্রবর্তীকে সদস্য করে তিন সদস্য বিশিষ্ট তদন্ত কমিটি গঠন করেন বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক মিজানুর রহমান।২২ জানুয়ারি তদন্ত কমিটি প্রতিবেদন দাখিল করে। তদন্তে অফিস সহকারীর বিরুদ্ধে আনিত অভিযোগের সত্যতা পাওয়া গেছে বলে জানান তদন্ত কমিটির সদস্যরা।
সোনাগাজী উপজেলা নির্বাহী অফিসার কামরুল হাসান বলেন, শিক্ষার্থীরা বিক্ষোভ মিছিলে যেসব অসংগতি তুলে ধরেছে সব গুলো সমাধানের আশ্বাস দেওয়ার পর তারা অবরোধ প্রত্যাহার করে নেন। তদন্তে অফিস সহকারীর বিরুদ্ধে আনিত অভিযোগের সত্যতা মেলায় তাকে বহিষ্কার করা হয়েছে।
সোনাগাজী মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা বায়েজিদ আকন বলেন, শিক্ষার্থীর পরিবার এখনো লিখিত দেয়নি। তবুও বিষয়টি জানার পর থেকে তাকে গ্রেফতারের চেষ্টা অব্যাহত রয়েছে।
উলেখ্য, ২০২২ সালের ২৫ জুলাই নবম শ্রেণির এক ছাত্রীকে যৌন নিপীড়নের অভিযোগে নুর নবীকে গ্রেপ্তার করেন সোনাগাজী থানা পুলিশ। পরে মামলা তুলে নিতে শিক্ষার্থীর পরিবারকে বিভিন্নভাবে চাপ প্রয়োগ করেন নুর নবীর লোকজন। একপর্যায়ে ওই শিক্ষার্থীর পরিবার মামলা তুলে নিলে কারাগার থেকে বেরিয়ে আসেন নুর নবী। পরে প্রধান শিক্ষক আবারো তাকে অফিস সহকারীর পদে পূর্নবহাল করেন।
মুআমু/